ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের (মমেক) ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীদের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আগামী সাত দিনের জন্য কলেজের সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে শনিবার সকাল ৮টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর আগে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে কলেজের বাঘমারা ছাত্রাবাসে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে এম-৬১ ব্যাচের শিক্ষার্থী হামিদুর রহমান ও আসাদুল্লাহ মোয়াজের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। প্রথমে কথাকাটাকাটির জেরে হামিদুর তার কক্ষে নিয়ে মোয়াজকে মারধর করেন। পরে মোয়াজ রড নিয়ে চা দোকানের সামনে হামিদুরের ওপর হামলা চালালে তার মাথা ফেটে যায়। সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনার কিছুক্ষণ পর পুলিশ অভিযুক্ত মোয়াজকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় হোস্টেল গেটের সামনে আবারও হামলার শিকার হন তিনি। হামিদুরের পক্ষের এক জুনিয়র শিক্ষার্থী নাফিউল পুলিশ বেষ্টনীর মধ্যেই মোয়াজের মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ডা.মতিউর রহমান জানান, পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় প্রশাসন জরুরি সিদ্ধান্ত হিসেবে ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত ও শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. নাজমুল আলম খান জানান, সংঘর্ষে আহত মুয়াজকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহত শিক্ষার্থী হামিদুর ময়মনসিংহ হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন।
তিনি আরও বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাত দিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে। পুরো ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
আরটিভি/এআর




